বিলুপ্তের পথে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায় বিলুপ্তের পথে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায় - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ২০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৪ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বরিশাল লাইভ ডেস্ক


বিলুপ্তের পথে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়

আগস্ট ৮, ২০১৮ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

মু.জাবির হোসেন, রাঙ্গাবালী: প্রায় দুই থেকে আড়াইশো বছর পূর্বে মায়ানমার ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পটুয়াখালীর উপকূলীয় রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল কেটে বসতি গড়ে তোলেন রাখাইন সম্প্রদায়। পটুয়াখালীর সাগর উপকূলীয় নির্জন বনভূমিকে বাসযোগ্য এলাকা করার কারিগর এ রাখাইনরাই। তৎকালীন সময় থেকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে এদের বংশ বিস্তার ঘটে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের দম্ভ ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা থেকে বিলুপ্তের পথে এই সম্প্রদায়। কগজপত্রে রাখাইন জনগোষ্ঠি নিয়ে নানা কর্মযজ্ঞ দেখা গেলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

১৭৮৪ সালে নানা সংকট ও জানমাল নিরাপত্তার জন্য আরাকান ও মায়ামার থেকে নৌপথে রাখাইনদের আগমন ঘটে পটুয়াখালী জেলায়। তৎকালীন সময়ে জেলার রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া সহ বেশ কয়েকটি উপজেলার সাগর উপকূলীয় নির্জন ভয়াবহ বনাঞ্চল কেটে বাসযোগ্য করে তোলে এবং অনাবাদি জমিকে আবাদযোগ্য করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি সাগরে মাছ এবং কুইচা, কাকরা সহ বন্য পশুপাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল তাদের মূল পেশা। স্বদেশ ত্যাগ করলেও তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা সচেষ্ট ছিল। এখন পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার রাখাইন পরিবার বসবাস করছে। কিন্তু ৯০ এর দশকে ছিল কয়েক গুন বেশী। তৎকালীন সময়ে ওই সকল এলাকা গুলোতে রাখাইন জনগোষ্ঠির বসবাস ছিল চোখে পড়ার মত। রাখাইনদের নামনুসারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার গংগিপাড়া, মনি পাড়া, ছাতিয়ান পাড়া, পুলাউপাড়া, মিদুপাড়া এবং কলাপাড়া উপজেলার নাচনাপাড়া, মিশ্রিপাড়া, হুইচানপাড়া, দিয়ারআমখোলাপাড়া (বর্তমান তাহেরপুর) কালাচান পাড়া (বর্তমান আলীপুর) লক্ষীপাড়া সহ অন্তত অর্ধশত এলাকার নাম রয়েছে। এ সকল এলাকা গুলোতে প্রভাবশালীদের দম্ভে অনেক আগেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে রাখাইনরা।

যারা আছেন তারাও মানবেতর জীবন-যাপন করছে। খাদ্য সংকেটর পাশাপাশি নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। এমন কি মাতৃভাষা প্রসারের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই সরকারী অথবা বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। পাশাপশি রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবরদখল। গত দুই দশকে মিথ্যা মামলা এবং জবর দখলে অন্তত দুই শতাধিক রাখাইন পরিবার ভিটে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিটে-মাটি রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যথেষ্ট উদাসিনতা রয়েছে বলে দাবী করেন রাখাইনরা। বিশেষ করে রাঙ্গাবালী এবং কলাপাড়া উপজেলার বেশিভাগ রাখাইনরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কেউ কেউ পারি দিয়েছেন আপন দেশ আরাকানে। যারা আছেন তারাও রয়েছে সাম্প্রদায়িক শংকায়।

রাঙ্গাবালী উপজেলার তুলাতলী রাখাইন পাড়ার বাসিন্দা- চোহামং, মংথাছি, মাতেন, মাচান ও উচামং রাখাইনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। ষ্পষ্ট বাংলা ভাষা বলতে না পারলেও বাংলা জানেন তারা। কেমন আছেন? জানতে চাইলে চোহামং রাখাইন এ ভাবেই বললেন, ‘ভাল নেই! কুচে কাকরা ধরে সংসার চালাইসে, পোলা মাইয়া স্কুলে জাইসে কলেজে জাইসে খরচা চালাইতে পারেনা কি করিবে। ৯৫ বছর বয়সী মংথাছি রাখাইন বলেন, ক্ষমতাসিনরা আমদের পাড়ার জমি রেকত (রেকর্ড) করিসে, আমাগো লোরাইতে চাইসে, আমরা কি আলের (হালের) গরু পিরাইয়া মারিসে নাকি এ্যা’।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনক ড. মাছুমুর রহমান জানান, রাখাইনদের ভাষা শিক্ষা ও চর্চার জন্য একটি কালচারাল সেন্টার তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতি মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বরিশাল/ এএম/ ইএম

 

 

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP