‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটি যেভাবে জনপ্রিয় হল 'রমজানের ঐ রোজার শেষে' গানটি যেভাবে জনপ্রিয় হল - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ১৬ই জুলাই, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

বরিশাল লাইভ ডেস্ক


‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটি যেভাবে জনপ্রিয় হল

জুন ১৮, ২০১৮ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’, গানটি বাংলাদেশে রীতিমতো যেন ঈদ উৎসবের জাতীয় সঙ্গীত অথবা ঈদের দিনের আবহ সঙ্গীত হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ দেখা গেছে এমন ঘোষণার সাথে সাথেই পাড়ায় মহল্লায় প্রথমেই শোনা যায় হৈ হুল্লোড়। আর তার পরপরই টেলিভিশন ও রেডিওতে বাজতে শুরু করে এই গানটি।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম গানটি লিখেছিলেন ১৯৩১ সালে জনপ্রিয় শিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহমেদের অনুরোধে। তার ছেলে শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসি বলেন, আব্বা নজরুলকে বলতেন কাজিদা। তিনি একদিন বললেন কাজিদা এই যে পেয়ারু কাওয়াল ঈদের সময় কত সুন্দর গান রচনা করে আর এইচএমভি থেকে যখন গ্রামোফোন বের হয়, হাজার হাজার কপি মুসলমানরা কিনে নেয়। তুমি এরমক একটা গান লেখো না?

আব্বাসউদ্দিন বয়সে একটু ছোট হলেও দু জনের সম্পর্ক বন্ধুর মতোই ছিল। আব্বাসউদ্দিন আহমেদ তাঁর স্মৃতিকথায় লিখে গেছেন, সেই সময়কার রেকর্ড কোম্পানি এইএমভির কর্মকর্তা ভগবতী ব্যানার্জি তখন বলেছিলেন (মুস্তাফা জামান আব্বাসির ভাষায়) তিনি বললেন, আব্বাস সাহেব মুসলমানদের পয়সা নেই। তারা রেকর্ড কিনতেও পারবে না। পূজার সময় গান বিক্রি হয়। ঈদের সময় কোন গান বিক্রি হবে না। নাছোড়বান্দা আব্বাসউদ্দিন রাজি করিয়েছিলেন সেসময়কার এইচএমভি কোম্পানির ভগবতী ব্যানার্জিকে।

গানটি এর পর এক বসায় লেখা ও সুর করা। তখনকার বাঙালি মুসলিম সমাজ এই গানটি লুফে নিয়েছিল। তিনি বলছিলেন, নজরুল আব্বাকে বললো পান নিয়ে আসো আর চা। আব্বা অনেকগুলো পান নিয়ে এলো। আর বললো চা আসছে। নজরুল একটা কাগজ নিয়ে এই গানটি লিখলেন। তারপর বললেন সুরটা এখনই করি না পরে করবো? আব্বাসউদ্দিন বললেন, কাজিদা আপনার মনের যে অনুভূতিটা, যেটা গানের মধ্যে প্রকাশ করেছেন এখন না করলে সেই মজাটা হবে না। এই সেই ইতিহাস।

গানটি প্রথম গেয়েছেন আব্বাসউদ্দিন নিজেই। লেখার কদিন পরেই রেকর্ড করা হয়েছিলো। নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলছেন, সেসময়কার বাঙালি মুসলিম সমাজ এই গানটি তখন লুফে নিয়েছিল। কারণ এই গানটিতে ধর্মীও ভাবধারা আর ঈদের যে খুশি সেটা খুব চমৎকারভাবে ধরা পড়েছে।

সেই থেকে এই গানের শুধু উত্থানই হয়েছে। এমনকি অমুসলিম শিল্পী সতিনাথ মুখার্জিসহ আরও অনেকের কণ্ঠে শোনা গেছে গানটি। আব্বাসউদ্দিনের ছেলে ও মেয়ে মুস্তাফা জামান আব্বাসি ও ফেরদৌসি রহমানও গানটি জনপ্রিয় করেছেন।

কিন্তু গানটিকে ধীরে ধীরে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার। ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই এই গানটি বাজানোর একটি রীতি প্রচলন করেছে সরকারি এই দুটি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান।

মুস্তাফা জামান আব্বাসি বলছেন, গানটি আসলে জনপ্রিয় করেছে বাংলার মুসলমান। তিনি আরও বলছেন, আব্বাস উদ্দিন মারা গেছেন ১৯৫৯ সালে। তার পরে এত বছর গানটি কারা গাইলো? আমরাইতো গাইলাম। আব্দুল আলিম, আব্দুল হালিম চৌধুরী, বেদার উদ্দিন আহমেদ, সোহরাব হোসেন, এদের নাম আমরা ভুলে যাবো কেন?”

আর অধ্যাপক ইসলাম বলছেন, এই গানটি দিয়েই বাংলায় মুসলিমদের মধ্যে সঙ্গীতের জনপ্রিয়তার শুরু, শোনা ও চর্চার শুরু। তিনি বলছেন, নজরুলই তার সূচনা করেছেন। ইসলামের নানা দিক ও ঈদকে নিয়ে গান রচনার চেষ্টা আরও অনেকেই করেছেন। কিন্তু তাতে এতটা সফল কেউই হননি।

এএম/সিপি/ বাপ্র

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP