বরিশাল কোতয়ালির ওসি আওলাদের বদলি, জনমনে নানা প্রশ্ন বরিশাল কোতয়ালির ওসি আওলাদের বদলি, জনমনে নানা প্রশ্ন - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ১৬ই জুলাই, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

বরিশাল লাইভ ডেস্ক


বরিশাল কোতয়ালির ওসি আওলাদের বদলি, জনমনে নানা প্রশ্ন

জুলাই ১১, ২০১৮ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার রুপ পাল্টে দিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুন কতটা ভুমিকা রেখেছেন তা কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে থানার পরিবেশের পাশাপাশি বরিশাল শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সফল উদাহরণও তৈরি করেছেন তিনি।

এই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পরে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশী সেবাবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ কমই শোনা যাচ্ছে। যদিও এমন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে থানার অনেক অফিসারের সাথে আওলাদের তিক্ততাও হয়েছে। কিন্তু জনগণের কাছে পুলিশের সেবা পৌছে দিতে অবহেলা করেননি তিনি। বরং নিজ কর্মপরিধীর বাইরে গিয়েও তিনি ভিক্টিমকে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এক্ষেত্রে তিনি অনেকাংশে সফল হয়েছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। মূলত এই কারণেই তার থানার অনেক অফিসার বিরাগভাজন হয়েছেন। পরবর্তীতে ক্ষোভে তারা ওসি আওলাদের বদলি আদেশ তরান্বিত করতে রাজনৈতিক মহলেও দৌড়ঝাপ শুরু করেন। এমনকি ওই গ্রুপ এই অঞ্চলের শীর্ষ রাজনৈতিক অভিভাবকদের হস্তগত হয়েছিলেন। কিন্তু কর্মগুণে স্মার্ট অফিসার আখ্যায়িত হওয়া ওসি আওলাদকে সেই ষড়ডন্ত্র মোটেও টলাতে পারেনি।

তবে এই কর্মকর্তাকে থানা থেকে হঠাতে পিছু ছাড়েনি ওই গ্রুপটি। যে কারণে সর্বশেষ ওসির স্বাভাবিক বদলি আদশেটিকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে মিডিয়ার দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এই ষড়যন্ত্রে কারা ব্যবহৃত হচ্ছেন সেই বিষয়টি অনেক আগেই প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি শহরবাসীর সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে তিনি বেশ প্রসংশাও কুড়িয়েছেন।

তাছাড়া পুলিশের সর্বোচ্চ পিপিএম সেবা ডিগ্রীধারী এই কর্মকর্তা এক সময়ের জরাজীর্ণ বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার রুপ পাল্টে আধুনিকতার ছোয়া লাগিয়েছেন। পুরো থানা কম্পাউন্ড সাজিয়ে কোতয়ালিকে আসলেই মডেলে রুপ দিয়েছেন। শহরের পুলিশ বান্ধব ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় থানার সম্মুখে নির্মাণ করেছেন একটি মোটরসাইকেল গ্রেজ ও একটি গোলঘর। ভেতরে প্রবেশের একমাত্র সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি ওসির বসতঘরটিতে এনেছেন চমক। থানার অভ্যন্তরে শোভা পাচ্ছে সু-সজ্জিত ফুলের বাগান ও বাহারী রঙের দৃষ্টিনন্দন ফুলের টব।

এমতাবস্থায় বলতে হচ্ছে- ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সন্তান ওসি শাহ্ আওলাদ হোসেন মামুনের কারিশমায় পাল্টে গেছে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার চিত্র। শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটিং পুলিশের সভাপতি মাহবুব আলম জানিয়েছেন- জনসেবা থেকে শুরু করে থানার সামগ্রিক পরিবেশের যে উন্নয়ন তিনি সাধিত করেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বলতে গেলে বিগত দুই যুগেও কোতয়ালি থানার পরিবেশ এমন ছিল না। বর্তমানে এই বিষয়টি পুলিশি সেবাপ্রত্যাশীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। যদিও এখানেই শেষ নয়, আধুনিক থানা গড়তে ওসির পরিকল্পনা। এত গেল থানার ভেতরের কথা। এবার আসা যাক অপরাধ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনি কি ভুমিকা রেখেছেন।

ওসি আওলাদের দক্ষতার কারণে অপরাধীদের আতুরঘর ‘রাতের নিষিদ্ধ জগত’ হোটেলে পতিতাবৃত্তি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত থানা গড়তে কার্যত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তবে ওসির এমন পদক্ষেপে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার অনেকটা স্বচ্ছ মনের মানুষ রুহুল আমিন খুশি হলেও মানতে পারেনি অধীনস্থ অনেক অফিসার। কারণ সেই সব কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ পল্লী ও মাদক ব্যবসায়িদের সাথে ছিল বিশেষ সখ্যতা। অনেকেই মাস বা সপ্তাহ অন্তর মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করতেন সেখান থেকে। কিন্তু ওসি এই সব অপরাধ বা অপরাধীদের সাথে সখ্যতার বিষয়ে ছিলেন পুরোপুরি বিপরিত মেরুতে।

ঘটনাচক্রে বিশেষ মহল থেকে আসা সমঝোতার প্রস্তাবও নাকচ করেন ওসি। মূলত ওসি আওলাদের অ্যাকশনে সেই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই অনেক কর্মকর্তাই থানা ছেড়ে অন্যত্র কর্মস্থল খুঁজে নিয়েছেন। যদিও এর নেপথ্যে একটি ষড়যন্ত্রের ছক রাখা হয়েছিল। এক সাথে কয়েকজন অফিসার চলে যাওয়ার কারণে ওসি বড় ধরনের একটি ধাক্কা খাবেন। কিন্তু ওসির দায়িত্বশীল পদক্ষেপে সেই ষড়যন্ত্র আর ধোপে টেকেনি।

বরং তাদের যাওযার পরে আসা নতুন পুরাতন ৬০ জন অফিসার নিয়ে শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। যদিও ওই গ্রুপটি চেয়েছিল শহরে বড় ধরনের একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সেটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটবেন। কিন্তু ওসি আওলাদের গত ২৬ মাসের দায়িত্বকালীন সময়ে শহরের মানুষ আতকে ওঠার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। ফলে কোন সুযোগ না পেয়ে ওসিকে থানা থেকে সরাতে কৌশলে লবিং তদ্বির শুরু করেন রাজনৈতিক ব্যক্তি বিশেষের কাছে। কিন্তু কিছুতেই তাদের মিশন বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।

যে কারণে সর্বশেষ গত মে মাসে পুলিশ কমিশনার রুহুল আমিনের বদলির পরেও সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। এমনকি ২/৪টি খোড়া অজুহাত তুলে তাকে প্রশাসনের উচ্চমহলে বিতর্কিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমানও ওসি আওলাদ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ফলে এখানেও ব্যর্থ হয়েছে গ্রুপটি। এখন গত ২৬ জুন আসা খুলনা রেঞ্জে পুলিশি বদলির স্বাভাবিক একটি আদেশ নিয়ে মাঠে নানা কথা রটাচ্ছে ওই গ্রুপটি।

অথচ এই পুলিশ কর্মকর্তা অনেক আগেই বরিশাল ছাড়তে পুলিশের উচ্চমহলে আরর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তখন পুলিশ কমিশনার রুহুল আমিন তাকে ছাড়তে চাইছিলেন না। কারণ ওসির কর্মগুণে নিজেই অভিভুত হয়েছিলেন কমিশনার। যে কারণে তিনি চাইছিলেন না তার বদলির আগে ওসি আওলাদ বরিশাল ত্যাগ করুক। এমনকি এই বিষয়টিই সহজভাবে নিতে পারেনি কেউ কেউ।

এক্ষেত্রে ওসি আওলাদের ভাষ্য হচ্ছে- নিন্দুকেরা অনেক কথাই বলেন। কিন্তু আমি ২০১৬ সালের ১১ জুন যোগদানের পরে কোতয়ালি পুলিশের সেবা জনগণ কেমন পেয়েছে তা সকলেরই জানা রয়েছে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভাল মনে করছি। বদলির বিষয়ে ওসি বলেন পুলিশের চাকুরি করি বদলি হওয়াটা স্বাভাবিক।

কারণ একই কর্মস্থলে পুলিশ পরিদর্শকের চাকুরিতে থাকার সুযোগ রয়েছে মাত্র ১৮ মাস। কিন্তু এখানে আমি ২৬ মাস কাজ করেছি। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পুলিশ সদর দফতর আমাকে যেখানে বদলি করবে সেখানেই যেতে প্রস্তুত। যদিও ওসির এই বদলি আদেশ নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। কারণ তফসিল ঘোষণা পরে কোন কর্মকর্তার বদলি হলে নির্বাচন কমিশনারের বিধিনিষেধ মেনে তাকে যেতে হয়। যদিও ওসি আওলাদ সেই সব নিয়ম মেনে যেতেই নির্বাচন কমিশনের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদের এই বদলি আদেশটি বরিশালের সচেতন নাগরিক মানতে পারছে না। পুলিশের সেবা দৌড়গোড়ে পৌছে দিয়েও তার এভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।

এক্ষেত্রে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটিং পুলিশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে- বিগত সময়ের কমিশানর সৈবাল কান্তির সময়ে এই থানার দায়িত্বে অন্য অফিসার ছিলেন। তখন থনার আওতাধীন এলাকা সাগরদীতে সন্ধ্যারাতে বৃদ্ধকে জবাই করে খুনসহ অনেক জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দেখেছেন। কিন্তু সেই কর্মকর্তা কিছুতেই সন্ত্র‍াসীদের লাগাম টানতে পারছিলেন না।

অথচ ওসি আওলাদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পুরো নগরীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে হোটেলে পতিতাবৃত্তি, মাদক ও সন্ত্রাস তিনি অনেকাংশে নির্মুল করেছেন। ফলে এই রকমের একজন অফিসারের বদলি আদেশে আঘাত পাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন তিনি।’

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP