এক সপ্তাহের মধ্যে নগরবাসী পাচ্ছে বেলতলা প্লান্ট’র বিশুদ্ধ পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নগরবাসী পাচ্ছে বেলতলা প্লান্ট’র বিশুদ্ধ পানি - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৭ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বরিশাল লাইভ ডেস্ক


এক সপ্তাহের মধ্যে নগরবাসী পাচ্ছে বেলতলা প্লান্ট’র বিশুদ্ধ পানি

আগস্ট ৯, ২০১৮ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

সাইদ মেমন ও সাইদ পান্থ: আলোর মুখ দেখছে বিদ্যুত সংযোগ ও বিল পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে চালু না হওয়া নগরীবাসীর মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বেলতলা এলাকার প্লান্ট থেকে নগরবাসীর মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুরু হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার বিকেলে এ প্লান্টটি নিজেদের দায়িত্বে নিয়েছে নগর ভবন কতৃপক্ষ। প্লান্টটির দায়িত্ব নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষামুলকভাবে পানি বিশুদ্ধকরন ও সরবরাহ কাজ করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন নগর ভবনের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান। তিনি জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীরের বেলতলা ও রুপাতলী এলাকায় নির্মিত হয়েছে দুইটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এরমধ্যে বেলতলার প্লান্টটি’র দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। রুপাতলীর প্লান্টটি ত্রুটিমুক্ত না হওয়ায় নির্মান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয়া হয়নি।
বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর বেলতলায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে এক সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এ প্লান্টটি হস্তান্তর হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান ও তিনিসহ (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্লান্টটির দায়িত্ব নেয়ার পর পানি বিশুদ্ধকরন প্রক্রিয়া ও সরবরাহের পাইপ লাইনের ত্রুটি চিহিৃত করনের জন্য পরীক্ষার কাজ চলছে। এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পানি সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নগরবাসী পাচ্ছে কীর্তনখোলা নদী থেকে পানি এনে বিশুদ্ধ করা পানি।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, বকেয়া বিদ্যুত বিল ও প্লান্টের বিদ্যুত বিল পরিশোধ নিয়ে জটিলতা অবসান হয়েছে। ছয় মাসের বিদ্যুত বিল নগর ভবন পরিশোধ করবে। মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর প্লান্টটির দায়িত্ব নেয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অর্থায়নে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ২০১২ ও ২০১৩ সালে নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে কীর্তনখোলা নদীর তীরে দুটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
নগরীর উত্তরাংশের বেলতলা এলাকায় নির্মিত প্লান্টটির ব্যয় ১৯ কোটি এবং নগরীর দক্ষিণাংশের রুপাতলীরটি ২৪ কোটি টাকা নির্ধারিত ছিল। নদী ভাঙ্গনসহ নানা কারনে বেলতলার প্লান্ট’র নির্মান ব্যয় ২৭ কোটিতে গিয়ে পৌছায়। এ প্লান্ট থেকে দৈনিক এক কোটি ষাট লক্ষ লিটারসহ দুইটি থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি নগরবাসীর মাঝে সরবরাহের জন্য ২০১৫ সালের জুন মাসে উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তুর নগর ভবনের কাছে কয়েক কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন করে সংযোগ দেয়া বন্ধ রাখে বিদ্যুত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকো। এতে দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্লান্ট দুইটি বিদ্যুত সংযোগ পায়নি। এছাড়াও প্লান্টে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার পর বিল পরিশোধ নিয়েও নগর ভবনের সাথে নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের জটিলতা তৈরি হয়। তাই তিন বছর ধরে মুখ থুবরে পড়ে ছিল প্লান্ট দুইটি। প্লান্ট দুইটি চালুর জন্য জেলা প্রশাসক, নগর ভবন, বিদ্যুত বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের মধ্যে দীর্ঘ চিঠি চালাচালির পর সমঝোতার মাধ্যমে চালু হচ্ছে একটি প্লান্ট। খুব শীঘ্রই রুপাতলীর প্লান্টটিও চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে।

এএম/সিপি/আপ

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
Developed by: NEXTZEN-IT