[english_date], [bangla_day]

বরগুনায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই : অস্থায়ী বেদিতেই পুষ্পস্তবক অর্পণ

আপডেট: February 21, 2019

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

জেলা সদরসহ মোট ছয়টি উপজেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দেড় হাজারের বেশি। জেলাটিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সুষ্ঠু ধারার বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বিরাজ করলেও হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কেবল শহীদ মিনার রয়েছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছর পার হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তো কী হয়েছে! হৃদয়ে তো আছে। এখানকার শিক্ষার্থী, শিশু, কিশোর তরুণরা তাই বসে না থেকে প্রতিবছরই অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে তার বেদিতেই পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ভাষা শহীদদের প্রতি হৃদয়ের যে ভালোবাসা শ্রদ্ধা ঢেলে দেয় তা অকিঞ্চিতকর নয় মোটেই।

২০ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই শুরু হয় মাতৃভাষা দিবস উদয়াপনের প্রস্তুতি। ছেলে-মেয়েরা অর্থ সংগ্রহে নেমে পড়ে। বাজেট খুব বেশি নয়। বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকেই আসে সে অর্থ। বিকেল থেকে শুরু হয় মূল প্রস্তুতি। কলাগাছ, বাঁশের চটা, গাছের পাতা, রং-বেরংয়ের কাগজ, আঁঠা, পেরেক, কাঠের গুঁড়া দিয়েই কাজ চলতে থাকে প্রাণের শহীদ মিনারের। একদল চলে ফুল সংগ্রহে। ফুল সংগ্রহে খুব একটা সাধুতা যে থাকে না তা বলাই বাহুল্য।

কেবল ছোটরাই নয়। ওদের উৎসাহ দিতে এগিয়ে আসে বিভিন্ন সংগঠনও। সবচেয়ে নান্দনিক শহীদ মিনারের কারিগরদের পুরস্কৃত করে তারা। বরগুনার জেলা উদীচী’র সভানেত্রী হোসনে আরা লাভলী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকলেও পাড়ায় পাড়ায় গ্রামে ছেলে মেয়েরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে। ওরা এ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা মননে লালন করে। একুশের চেতনা ও মূল্যবোধ রক্ষায় দারুন ইতিবাচক দিক।

জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরগুলো জানিয়েছে, জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় রয়েছে ১০৭ টি, নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫৩টি, ডিগ্রি কলেজ ১১ টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১২ টি, স্কুল ও কলেজ১৫টি, দাখিল মাদ্রাসা ৯৮টি, আলিম মাদ্রাসা ২১টি, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা ১৩টি, ইবতেদায়ি ২৫০টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৫০টি। এছাড়াও বেসরকারী, দাতা ও উন্নয়ন সংস্থার পরিচালনায় ২ শতাধিক আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এ সকল বিদ্যালয়ের অধিকাংশেই কোন শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিহ্যবাহী, প্রাচীন নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন আমতলী সরকারী একে পাইলট হাই স্কুল, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেকুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পচাঁকোড়ালিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কড়াইবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা, বকুলনেছা মহিলা কলেজ ইত্যাদি ক্যাম্পাসগুলোতে শহীদ মিনার নেই। যে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে সারা বছরই সেগুলো অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকে। প্রতি বছর মাতৃভাষা দিবসের দু-এক দিন আগে সেগুলো ঘষা-মাজা করা হয়।

আমতলীর সরকারী একে পাইলট হাই স্কুল, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিশা, অন্দ্রিলা, সেঁজুতি জানায়, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন জানাতে পারছে না। কলেজের শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিতে হয়। তালতলী উপজেলার তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান সিয়াম, তানজিলা, সাদনান, সাকিব, ইমরান জানায়, শহীদ মিনার না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী মিনার নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

আমতলীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ভাষা শহীদদের পরিচয় জানতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা আবশ্যক। জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

আলাপকালে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসাইন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এমএন মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই। যে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সে সকল স্থানে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্রঃ বাসস

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন