বিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে লাঞ্চিতের ঘটনার তদন্ত কমিটি বিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে লাঞ্চিতের ঘটনার তদন্ত কমিটি - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ২০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৪ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বার্তা ডেস্ক


বিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে লাঞ্চিতের ঘটনার তদন্ত কমিটি

এপ্রিল ২৫, ২০১৮ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

বরিশাল : বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলীকে গুলি করে হত্যার হুমকিসহ লাঞ্ছিত করার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

 

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিচুজ্জামান বাদী হয়ে করা সাধারণ ডায়েরিতে  ‘মেসার্স মিতুসী ট্রেডার্স’র সত্ত্বাধিকারী ঠিকাদার মোমেন সিকদারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে বিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিচুজ্জামান।

 

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালে সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদার মোমিন শিকদার কর্তৃক প্রকৌশলী আনিচুজ্জামান লাঞ্ছনার ঘটনায় আল্টিমেটামের মধ্যেই পাল্টা আল্টিমেটাম দিয়েছে বরিশাল ঠিকাদার সমিতি। ঠিকাদার সমিতি দাবী করেছে, মোমেন শিকদার কোন অনৈতিক দাবী তুলতে যাননি বরংছ প্রকৌশলী আনিচুজ্জামানের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আন্দোলনের ডাক দিয়ে চাপ প্রযোগ করছে ঠিকাদারদের উপর। ঠিকাদার সমিতি হুমিয়ারি দিয়েছে, প্রকৌশলী আনিচুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সিটি করপোরেশনের সকল কাজ বাস্তবায়ন ঠিকাদারেরা বাস্তবায়ন বন্ধ করে দিবে।

 

তাই ঘটনার তদন্তে সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল। তিনি এ কমিটিকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এরআগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় নগর ভবনের সামনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যানারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামানকে ঠিকাদার কর্তৃক লাঞ্চিত করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

 

মানববন্ধন থেকে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

 

মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নগর ভবন শাখার সম্পাদক ও পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, ঠিকাদার মোমেন সিকদার প্রায়ই ক্ষমতার দাপট দেখিতে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। আজ অবৈধ সুবিধা নিতে না পেরে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামানকে লাঞ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাই পাশাপাশি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানই।

 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমারা আইনগত ব্যবস্থা (মামলা) গ্রহন করতে যাচ্ছি। তবে কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনে কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা গেলে তারাই দায়ী থাকবেন। এরআগে বেলা আড়াইটার দিকে নগর ভবনের তিনতলায় জরুরী সভায় বসেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

ঘটনার বিবরণে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামান জানান, সিটি কর্পোরেশনের সেবক কলোনী প্রকল্পের আওতায় ৪ নম্বর প্যাকেজ রয়েছে। যার আওতায়  আমির কুটির সেবক কলোনী ও জানুকি সিং রোড সেবক কলোনীর মধ্যে তিনটি ঘাটলা, ডিপটিউবয়েল, ওয়াকওয়েসহ নানান কার্যক্রম রয়েছে। এ কাজ ১ বছর ৩ মাস আগে শুরু হয়। মিতুসি এন্টারপ্রাইজের নামে কাজ নিয়ে মোমিন সিকদার নামের ঠিকাদার একটি ঘাটলা করে ৪ লাখের মতো টাকা তুলে নেয়। তখন ঠিকাদার মোমিন সিকদার অনেক টাকা বিল নেয়ার চেষ্টা করলে আমারা তা হতে দেয়নি, এরপর থেকেই তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।

 

১ বছর কাজ ফেলে রেখে মাসখানেক তিনি কাজ আবার শুরু করেন এবং এখন যেহেতু কর্পোরেশনে টাকা এসেছে তাই তিনি বিলের পায়তারা করছিলেন। বর্তমানে ২০/২৫ লাখ টাকার কাজ হয়ে থাকলেও গত তিনদিন আগে তিনি সহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে এক কোটি টাকার বিল চান। তখন আমরা এটা সম্ভব নয় বলে জানাই।

 

এর ধারাবাহিকতায় তিনি সোমবার দুপুরে আমার কক্ষে যান এবং বাড়তি বিল নেয়ার নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেন। এসময় তিনি অকথ্যভাষায় আমাকে গালাগালি করেন, দেখে নেয়া, প্রাণ নাশের, টাকা দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার হুমকিসহ নানানধরনের কথা বলেন। এরপর সহকর্মীদের আমি ডাকলে তাদের সামনেই আমাকে গাঁজাখোর সম্মোধন করে লাঞ্চিত করেন।

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP