ঐতিহ্যবাহী বরিশালের মিয়াবাড়ি মসজিদ ঐতিহ্যবাহী বরিশালের মিয়াবাড়ি মসজিদ - For update barisal news visit barisallive24.com
বরিশাল, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৪ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বরিশাল লাইভ ডেস্ক


ঐতিহ্যবাহী বরিশালের মিয়াবাড়ি মসজিদ

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

বরিশাল : ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ। বাংলাদেশের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর মধ্যে একটি এটি।

বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুরে অবস্থিত দ্বিতল এ মসজিদটি।

কাশিপুর চৌমাথা থেকে পশ্চিম দিকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে এটি হলেও বরিশাল নগরের চৌমাথা নবগ্রাম রোড থেকেও যাওয়া যায়।

এক্ষেত্রে মটরসাইকেল, অটো রিক্সা বা আলফা গাড়ি যোগে আসা যাওয়া করা যায়।

দর্শনার্থীদের ও ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় রেখে সম্প্রতি সময়ে প্রতœতত্ম বিভাগ কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার ও রঙ করার জন্য সহযোগীতা করছেন। যে উন্নয়ন কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

চারকোনা এই মসজিদটির উপরিভাগে তিনটি ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটি গম্বুজের চেয়ে আকারে কিছুটা বড়।

কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদের সামনের দেয়ালে চারটি মিনার এবং পেছনের দেয়ালে চারটি মিনার সহ মোট আটটি বড় মিনার রয়েছে। এছাড়া সামনের এবং পেছনের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে মোট ১২টি ছোট মিনারও রয়েছে।

মসজিদের উপরিভাগ (সিলিং) এবং সবগুলো মিনারে নিখুত কারুকাজ করা রয়েছে।

উঁচু বেসম্যাণ্টের ওপর নির্মিত এই মসজিদের পূর্বদিকে একটি বিশালাকারের দিঘী রয়েছে।

দ্বিতল এই মসজিদের দ্বিতীয় তলায়ই নামাযের ব্যবস্থা। সেজন্য মসজিদের বাহির থেকে দোতলা পর্যন্ত একটি প্রশস্ত সিড়ি রয়েছে। নীচতলায় বেসমেন্টের অভ্যন্তরের কয়েকটি কক্ষে বর্তমানে চলছে মাদ্রাসার কার্যক্রম। আর সিঁড়ির নীচের ফাঁকা জায়গায় রয়েছে দুটো কবরও।

বর্তমানে ভ্রমন পিপাসু মানুষ এই মসজিদ দেখতে প্রায়ই যাচ্ছেন সেখানে। তবে নবগ্রাম রোড থেকে মসজিদ পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে তার অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কটির এতই করুন দশা যে, প্রাচীন ঐতিহ্যে বহনকারী এই মসজিদটি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের প্রায়ই বিড়ম্বনা এবং ছোটখাট দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে।

মিয়াবাড়ি মসজিদের মুসুল্লী মো. আর্শেদ আলী সিকদার (৭০) জানান, মুঘল আমলে নির্মিত মসজিদটি এই অঞ্চলের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রাচীন কারুকাজ খচিত মসজিদটি দেখতে দুরদুরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ জন ছুটে আসছে। কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি সংস্কারের অভাবে দিন দিন যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মসজিদটি দেখতে আসা অনেক দর্শনাথীরাই এর আদব কায়দা মানে না। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার এই ঘরটির উপরে নারী পুুরুষ উঠে হারহামেশাই ছবি তোলে থাকে। কিন্তু তাদেরকে নানভাবে নিষেধ করা হলেও তারা তা মানতে চায় না।

সূত্রমতে, এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হায়াত মাহমুদ ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে প্রিন্স অফ ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত হন এবং তাঁর বুর্জুগ উমেদপুরের জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি দু’টি দীঘি এবং দোতলা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাছাড়া মসজিদটির স্থাপত্যরীতিতে পুরান ঢাকায় অবস্থিত শায়েস্তা খান নির্মিত কারতলব খান মসজিদের অনুকরণ দৃশ্যমান।

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
Developed by: NEXTZEN-IT